শুরু করুন৬ মিনিট পড়া

শেয়ার কেনাবেচা করবেন যেভাবে

বিও অ্যাকাউন্ট খুলেছেন, এবার আসল কাজ — শেয়ার কেনা ও বেচা। অর্ডার দেওয়া, লেনদেনের সময়, আর T+2 সেটেলমেন্ট সহজ ভাষায়।

লেনদেনের সময়

  • বাজার খোলে: সকাল ১০টা (রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার)
  • বাজার বন্ধ: দুপুর ২টা ৩০ মিনিট
  • প্রি-ওপেনিং সেশন: সকাল ৯টা ৪৫ থেকে ১০টা (অর্ডার দেওয়া যায়, তবে তখন লেনদেন হয় না)
  • শুক্র, শনি ও সরকারি ছুটির দিনে বাজার বন্ধ থাকে

কীভাবে কেনার অর্ডার দেবেন

আপনার ব্রোকারের অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লগ-ইন করুন। যে কোম্পানির শেয়ার কিনতে চান, তার ট্রেডিং কোড দিয়ে খুঁজুন (যেমন গ্রামীণফোনের জন্য GP, স্কয়ার ফার্মার জন্য SQURPHARMA)। 'Buy' বা কেনা বেছে নিন, কয়টা শেয়ার আর কত দামে কিনতে চান তা লিখে নিশ্চিত করুন। আপনার অর্ডারটি বাজারের তালিকায় চলে যায়, আর কোনো বিক্রেতা আপনার দামে রাজি হলে লেনদেনটা হয়ে যায়।

অর্ডারের ধরন — মার্কেট না লিমিট

  • মার্কেট অর্ডার: এই মুহূর্তে যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, সেই দামেই সাথে সাথে কেনে বা বেচে
  • লিমিট অর্ডার: আপনি নিজে একটা দাম ঠিক করে দেন — কেনার সর্বোচ্চ বা বিক্রির সর্বনিম্ন দাম। বাজার সেই দামে এলে তবেই লেনদেন হয়
  • বেশিরভাগ সাধারণ বিনিয়োগকারী লিমিট অর্ডার ব্যবহার করেন, যাতে দামের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে থাকে

কীভাবে বিক্রির অর্ডার দেবেন

ব্রোকারের অ্যাপে আপনার পোর্টফোলিওতে যান, যে শেয়ার বিক্রি করতে চান সেটা বেছে 'Sell' বা বিক্রি দিন, কয়টা শেয়ার আর কত দাম চান তা লিখুন। কোনো ক্রেতা আপনার দামে রাজি হলে লেনদেনটা হয়ে যায়। বিক্রির টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে দেখাবে সেটেলমেন্টের পর (T+2)।

T+2 সেটেলমেন্ট মানে কী

ডিএসই T+2 নিয়মে চলে। মানে আপনি যদি রবিবার শেয়ার কেনেন, সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে আপনার বিও অ্যাকাউন্টে আসে মঙ্গলবার (২ কর্মদিবস পরে)। তেমনি, বিক্রি করলে টাকা হাতে পান লেনদেনের ২ কর্মদিবস পর। আজ কেনা শেয়ার আজই আবার বিক্রি করা যায় না — দু-দিন অপেক্ষা করতে হয়।

লেনদেনে কী কী খরচ হয়

  • ব্রোকারেজ কমিশন: লেনদেনের মূল্যের ০.২৫%–০.৫০% (ব্রোকার নেয়)
  • ছোট ছোট এক্সচেঞ্জ ও সেটেলমেন্ট ফি প্রতিটি লেনদেনে
  • লেনদেনের ওপর সামান্য উৎস কর
  • এই খরচগুলো ছোট, তবে এ কারণেই আপনার লাভ সবসময় দামের পার্থক্যের চেয়ে একটু কম হয়

নতুনদের জন্য কয়েকটি পরামর্শ

  • সবসময় লিমিট অর্ডার ব্যবহার করুন — দাম বাজারের হাতে ছেড়ে দেবেন না
  • যে টাকা ১–২ বছর রাখতে পারবেন, কেবল তাই দিয়ে কিনুন
  • ৪–৫টি আলাদা কোম্পানি বা খাতে ছড়িয়ে বিনিয়োগ করুন
  • শুধু দামের চার্ট নয়, কেনার আগে কোম্পানির আসল অবস্থা দেখুন
  • অল্প সময়ে ৩০–৫০% বেড়ে যাওয়া শেয়ার শুধু গতির পেছনে ছুটে কিনবেন না

আরও পড়ুন: শুরু করুন

এবার শেখাটা কাজে লাগানোর পালা।

কোন কোম্পানিগুলো আসল হিসাবের দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী, এক নজরে দেখুন — কোনো স্প্রেডশিট বা বার্ষিক প্রতিবেদন ঘাঁটতে হবে না।