ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস জিনিসটা কী?
ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস মানে কোনো কোম্পানির আর্থিক স্বাস্থ্য আর ব্যবসার মান যাচাই করে বোঝা — বর্তমান দামে এর শেয়ার কেনাটা যুক্তিসঙ্গত কিনা। দামের চার্টের ওঠানামা না দেখে, এখানে আপনি দেখেন কোম্পানির আসল ভেতরটা: কত লাভ করছে, কত ঋণ আছে, ডিভিডেন্ড দেয় কিনা, ব্যবসা বাড়ছে কিনা। সহজ কথায়, শেয়ারের দামের পেছনে যে আসল ব্যবসাটা আছে, সেটাকেই খতিয়ে দেখা।
ইপিএস (EPS) — প্রতি শেয়ারে কত আয়
EPS মানে Earnings Per Share, অর্থাৎ প্রতি শেয়ারে কোম্পানি কত টাকা লাভ করল। হিসাবটা সহজ: কোম্পানির মোট লাভকে মোট শেয়ার সংখ্যা দিয়ে ভাগ। কোনো কোম্পানির EPS যদি ১০ টাকা হয়, মানে গত বছর প্রতি শেয়ারে সে ১০ টাকা আয় করেছে। সংখ্যাটা বেশি হলে সাধারণত ভালো। তবে আরও জরুরি — EPS বছরের পর বছর বাড়ছে কিনা। ৫ থেকে ৮, এরপর ১২ টাকায় উঠে আসা EPS একটা ভালো লক্ষণ।
পি/ই রেশিও (P/E) — দাম কি বেশি না কম?
P/E মানে শেয়ারের দাম ভাগ EPS। ধরুন একটা শেয়ারের দাম ১০০ টাকা আর EPS ১০ টাকা — তাহলে P/E হলো ১০। মানে কোম্পানির ১ টাকা আয়ের জন্য আপনি ১০ টাকা দিচ্ছেন। কম P/E বোঝাতে পারে শেয়ারটা তুলনামূলক সস্তা; খুব বেশি P/E বোঝাতে পারে দামটা চড়া, কিংবা বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতে বড় প্রবৃদ্ধির আশা করছে। P/E মেলান কোম্পানির নিজের অতীতের সাথে আর একই খাতের অন্য কোম্পানির সাথে — পুরো বাজারের সাথে নয়।
এনএভি (NAV) — শেয়ারের আসল সম্পদমূল্য
NAV মানে Net Asset Value — কোম্পানির সব সম্পদ থেকে দায় বাদ দিয়ে প্রতি শেয়ারের যে বইমূল্য দাঁড়ায়। শেয়ারের দাম যদি NAV-এর নিচে থাকে, সেটা সস্তা হতে পারে। আর দাম যদি NAV-এর কয়েকগুণ হয়, বাজার সেখানে অনেক ভবিষ্যৎ আয় ধরে নিচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার যাচাইয়ে NAV খুব কাজে দেয়।
ডিভিডেন্ড ইল্ড — টাকায় কত ফেরত আসছে
ডিভিডেন্ড ইল্ড দেখায় — আপনি যত টাকায় শেয়ার কিনছেন, তার বিপরীতে বছরে কত শতাংশ নগদ ডিভিডেন্ড পাচ্ছেন। হিসাব: বছরের ডিভিডেন্ড ভাগ দাম, গুণ ১০০। ১০০ টাকার শেয়ার যদি ৫ টাকা ডিভিডেন্ড দেয়, ইল্ড ৫%। বছরের পর বছর নিয়মিত ৪–৮% ইল্ড দেওয়া কোম্পানি প্রায়ই আর্থিক স্থিতিশীলতার লক্ষণ। তবে অস্বাভাবিক বেশি ইল্ড দেখলে সাবধান — দাম পড়ে গিয়েও ইল্ড বেড়ে যেতে পারে।
ঋণ আর আর্থিক স্বাস্থ্য
- ঋণ বনাম মূলধন (Debt-to-Equity): মোট ঋণ ভাগ মোট মূলধন। ২-এর বেশি হলে কোম্পানি অতিরিক্ত ঋণে চলছে — সুদের হার বাড়লে ঝুঁকি
- চলতি অনুপাত (Current Ratio): চলতি সম্পদ ভাগ চলতি দায়। ১.৫-এর ওপরে থাকলে স্বল্পমেয়াদি দায় মেটানোর সামর্থ্য ভালো
- পরিচালন নগদ প্রবাহ: কাগজে লাভ দেখালেও যদি নিয়মিত নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক হয়, সেটা একটা সতর্কসংকেত
সবগুলো একসাথে — আমাদের স্কোর যেভাবে সাহায্য করে
এতগুলো সংখ্যা ৩০০-র বেশি কোম্পানির জন্য নিজে হিসাব করা কঠিন। আমাদের স্কোর (০–১০০) এই সবকিছু — লাভের প্রবৃদ্ধি, রিটার্ন, ঋণের মাত্রা, দামের যৌক্তিকতা আর ডিভিডেন্ডের ইতিহাস — একসাথে এনে একটা সহজ সংখ্যায় দাঁড় করায়। র্যাঙ্কিং পেজ খুললেই দেখে নিতে পারবেন কোন কোম্পানিগুলো সবচেয়ে শক্তিশালী দেখাচ্ছে। তবে এটাকে শুরুর একটা সাহায্য ভাবুন, শেষ কথা নয় — বিনিয়োগের আগে কোম্পানিটা নিজেও একটু দেখে নিন।