শেয়ারের ক্যাটাগরি — A, B, Z, N এক অক্ষরে কোম্পানির স্বাস্থ্য

বাজারের প্রতিটি শেয়ারের গায়ে একটা অক্ষর — A, B, Z বা N। সেই একটা অক্ষরই বলে দেয় কোম্পানিটা কেমন। পড়তে শিখে নিন।

ক্যাটাগরি জিনিসটা কী?

শেয়ারের ক্যাটাগরিকে ভাবুন বাজারের দেওয়া একটা সহজ রিপোর্ট কার্ড হিসেবে। একটা মাত্র অক্ষর — A, B, Z বা N — দেখেই দ্রুত আঁচ করা যায় কোম্পানিটা ভালো চলছে, মোটামুটি, নাকি সমস্যায় আছে। এই ক্যাটাগরি মূলত নির্ভর করে কোম্পানি সময়মতো বার্ষিক সভা করে কিনা আর কত নিয়মিত ডিভিডেন্ড দেয় তার ওপর। কেনার আগে ক্যাটাগরিটা জানলে অনেক ঝামেলা থেকে বাঁচা যায়।

A ক্যাটাগরি — সবচেয়ে ভালো

এগুলো সবচেয়ে সুস্থ কোম্পানি। এরা সময়মতো বার্ষিক সাধারণ সভা করে আর গত বছর অন্তত ১০% ডিভিডেন্ড দিয়েছে। 'A' দেখলে বুঝবেন কোম্পানিটা নিয়মিত, সক্রিয়, আর শেয়ারহোল্ডারদের পুরস্কার দিচ্ছে। বেশিরভাগ পরিচিত, ভরসাযোগ্য কোম্পানি এই দলে। নতুনদের জন্য এখান থেকেই দেখা শুরু করা সবচেয়ে নিরাপদ।

B ক্যাটাগরি — দিচ্ছে, তবে একটু কম

এই কোম্পানিগুলোও সময়মতো বার্ষিক সভা করে, কিন্তু গত বছর ডিভিডেন্ড দিয়েছে কম — ১০%-এর নিচে। এরা বিপদে নেই, তবে শেয়ারহোল্ডারদের একটু কম পুরস্কার দিচ্ছে। 'B' কোম্পানিও ভালো বিনিয়োগ হতে পারে, তবে ডিভিডেন্ড কম কেন তা একটু খতিয়ে দেখে নেওয়া ভালো।

Z ক্যাটাগরি — সাবধানে থাকুন

এটাই সতর্কতার ক্যাটাগরি। একটা 'Z' কোম্পানি হয়তো বার্ষিক সভা করেনি, কোনো ডিভিডেন্ড দেয়নি, বা ব্যবসা ঠিকমতো চালাচ্ছে না। কারো কারো দীর্ঘদিন কোনো লাভ নেই। Z ক্যাটাগরির শেয়ারের দাম পাগলের মতো ওঠানামা করতে পারে আর আপনার টাকা আটকে দিতে পারে। ঝুঁকি পুরোপুরি না বোঝা পর্যন্ত নতুনদের Z ক্যাটাগরি থেকে দূরে থাকাই ভালো — এখানেই বেশিরভাগ নতুন মানুষ পুড়ে যায়।

N ক্যাটাগরি — নতুন মুখ

'N' মানে নতুন তালিকাভুক্ত। এরা আইপিওর মাধ্যমে সবেমাত্র বাজারে এসেছে, এক বছরও পূর্ণ করেনি, তাই গ্রেড দেওয়ার মতো কোনো ট্র্যাক রেকর্ড নেই। প্রথম বছর পার করে প্রথম বার্ষিক সভা করার পর এদের পারফরম্যান্স অনুযায়ী A, B বা Z-তে সরিয়ে দেওয়া হয়। ততক্ষণ এদের নতুন মুখ হিসেবেই দেখুন, যাদের সম্পর্কে এখনো জানা বাকি।

কোথায় দেখবেন, আর এটা আপনার জন্য কী মানে রাখে

  • A: সুস্থ ও নিয়মিত — শুরু করার আরামদায়ক জায়গা
  • B: ঠিক আছে, তবে ডিভিডেন্ড কম — একটু খতিয়ে দেখুন
  • Z: ঝুঁকিপূর্ণ — ভালো করে না বোঝা পর্যন্ত এড়িয়ে চলুন
  • N: একদম নতুন — ট্র্যাক রেকর্ড নেই, তাই ধীরে এগোন
  • প্রতিটি শেয়ারের ক্যাটাগরি ব্রোকারের অ্যাপে বা বাজারের ওয়েবসাইটে নামের পাশেই ছোট অক্ষরে থাকে — কেনার আগে একবার চোখ বুলিয়ে নিন

আরও পড়ুন: বাজারের নিয়মকানুন ও ক্যাটাগরি

এবার শেখাটা কাজে লাগানোর পালা।

কোন কোম্পানিগুলো আসল হিসাবের দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী, এক নজরে দেখুন — কোনো স্প্রেডশিট বা বার্ষিক প্রতিবেদন ঘাঁটতে হবে না।