শেয়ারের দামের চার্ট প্রথমবার পড়া

ওই আঁকাবাঁকা রেখা আর রঙিন দাগগুলো দেখতে যত কঠিন, আসলে তত নয়। সহজ ভাষায় একটা দামের চার্ট বুঝে নেওয়ার শুরু।

একটা দামের চার্ট কী দেখায়

দামের চার্ট আসলে সময়ের সাথে একটা শেয়ারের দামের একটা ছবি। নিচ বরাবর চলে সময় — বাঁ দিকে পুরোনো, ডান দিকে নতুন; আর পাশ বরাবর ওঠে দাম। এটুকুই পুরো ভিত্তি। বাকি সব এর ওপর সাজানো খুঁটিনাটি। চার্ট আপনাকে বলবে না কোম্পানিটা ভালো কিনা — সেটা বলে আর্থিক হিসাব — তবে এটি দেখায় দামটা কীভাবে চলেছে, যা কেনার সময় বাছতে কাজে লাগে।

সহজ লাইন চার্ট

সবচেয়ে সহজ চার্ট হলো একটা লাইন, যা প্রতিদিনের বন্ধ-দামকে জুড়ে দেয়। লাইন ওপরে উঠলে দাম বাড়ছে; নামলে কমছে। নতুনদের জন্য বড় ছবিটা দেখতে প্রায়ই একটা লাইন চার্টই যথেষ্ট: এই শেয়ার কি কয়েক মাস ধরে সাধারণভাবে ওপরে উঠছে, নিচে নামছে, নাকি একপাশে দুলছে? জটিল কিছুতে যাওয়ার আগে এখান থেকেই শুরু করুন।

ক্যান্ডেলস্টিক — প্রতিটি দাগে বেশি তথ্য

আপনি প্রায়ই ছোট ছোট রঙিন দাগ দিয়ে তৈরি চার্ট দেখবেন, যাদের বলে ক্যান্ডেলস্টিক। প্রতিটি ক্যান্ডেল সাধারণত একদিনকে বোঝায় আর চারটে তথ্য ধরে রাখে: দিনের শুরুর দাম, শেষের দাম, আর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কত উঠল-নামল। একটা রঙ মানে দাম শুরুর চেয়ে বেশি দামে শেষ হয়েছে; অন্য রঙ মানে কম দামে। প্যাটার্ন মুখস্থ করার দরকার নেই — শুধু জানুন প্রতিটি ক্যান্ডেল একদিনের মেজাজ একটা আকারে।

ভলিউম — দামের নিচের ভিড়

দামের নিচে সাধারণত খাড়া কিছু দণ্ড দেখবেন, যাদের বলে ভলিউম। ভলিউম মানে ওই দিন কয়টা শেয়ার হাতবদল হলো — ভিড়টা কতটা সরগরম ছিল। এটা জরুরি, কারণ বেশি ভলিউমে দামের নড়াচড়া মানে অনেকে একমত, তাই সেটাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়; আর কম ভলিউমে নড়াচড়া হতে পারে নিছক হঠাৎ ঘটনা। বড় ভলিউমে হওয়া বড় দাম-পরিবর্তন শান্ত নড়াচড়ার চেয়ে বেশি ওজন বহন করে।

ট্রেন্ড বা ধারা চেনা

চার্টের সবচেয়ে কাজের জিনিসটা হলো ট্রেন্ড — সময়ের সাথে দামের সাধারণ দিক। ঊর্ধ্বমুখী ধারা ওঠার সময় উঁচু থেকে উঁচু চূড়া আর উঁচু থেকে উঁচু খাঁজ বানায়। নিম্নমুখী ধারা নামার সময় নিচু থেকে নিচু চূড়া আর খাঁজ বানায়। একপাশের ধারা শুধু একটা সীমার মধ্যে দুলতে থাকে, বিশেষ কোথাও যায় না। আঁকাবাঁকার ভেতরে কিছু পড়ার আগে এক পা পিছিয়ে দেখুন এই তিনটার কোনটা চলছে।

মেঝে আর ছাদ (সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স)

প্রায়ই দাম একটা নির্দিষ্ট স্তর থেকে বারবার ওপরে লাফিয়ে ওঠে, যেন একটা অদৃশ্য মেঝে আছে — ওখানে ক্রেতারা এগিয়ে আসে। সেই মেঝেকে বলে সাপোর্ট। তেমনি, দাম একটা স্তর থেকে বারবার নিচে ঠেলে নামে, যেন অদৃশ্য ছাদ যেখানে বিক্রেতারা হাজির হয়। সেই ছাদকে বলে রেজিস্ট্যান্স। এগুলো জাদু নয়, তবে দেখায় ভিড় আগে কোথায় মত বদলেছে — যা কেনা বা বেচার সময় ঠিক করতে কাজে দেয়।

একটা মৃদু সতর্কবার্তা

চার্ট সহায়ক, কিন্তু এটা ভবিষ্যৎ-দর্পণ নয়। সুন্দর একটা ওপরে ওঠা রেখা কথা দিতে পারে না যে দাম আরও বাড়বেই, আর গতকাল যে প্যাটার্ন কাজ করেছে তা আজ ব্যর্থ হতে পারে। চার্ট দিয়ে বুঝুন দাম কোথায় ছিল আর কেনার সময় বাছুন — কিন্তু আসল সিদ্ধান্ত নিন কোম্পানিটা সত্যিই শক্তিশালী কিনা তার ওপর ভিত্তি করে। দাম বলে মেজাজ; ব্যবসা বলে আসল মূল্য।

আরও পড়ুন: ভালো শেয়ার চেনার উপায়

এবার শেখাটা কাজে লাগানোর পালা।

কোন কোম্পানিগুলো আসল হিসাবের দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী, এক নজরে দেখুন — কোনো স্প্রেডশিট বা বার্ষিক প্রতিবেদন ঘাঁটতে হবে না।